
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের গল্প, রাজা, মন্ত্রী, সেনাপতির চোখে নয়; আপামর জনতার চোখে। চট্টগ্রামের একদল তরুণের নির্মিত, গণ-অর্থায়নে তৈরি ডকুফিল্ম।
ফুল স্ক্রিনে দেখার পরামর্শ রইল · সাউন্ড অন করুন
চব্বিশের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান নিয়ে চট্টগ্রামের একদল তরুণের ডকুমেন্টারি ছবি উদ্দেশ্য জনতার বয়ান তুলে আনা।

জুলাইয়ের অংশীদার অনেকেই। আপাতদৃষ্টিতে ঐক্য সত্ত্বেও সবার গল্প ধীরে ধীরে ভিন্নতা পাবে তা প্রায় অবধারিত ছিল। এই উপলব্ধি থেকে, নির্দিষ্ট কোনো দল/মত/প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা ও গণমানুষের বয়ান হাজির করার তাগিদ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল তরুণ নির্মাণ করেন জুলাই ডায়েরিজ।
আর্থিক সহায়তার সাথে বয়ানে হস্তক্ষেপের বিষয়টাও চলে আসে নির্মাতা দল চাননি সেটা হোক। সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট: কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কাছ থেকে পয়সা নেব না। ২৫-এর জানুয়ারি থেকে রিসার্চ শুরু হয়, বছরের মাঝামাঝি নাগাদ চলে জনসংযোগ ও গণ-অর্থায়ন কার্যক্রম এই পথে বেরিয়েছে একটি ম্যাগাজিনও, বোধ সংযোগ।
ছবি শ্যুট করা হতে থাকে ক্লাস, পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে। একটানা এডিটিং করে ২৬-এর জুলাইয়ে শেষ হয় কাজ।
“ইতিহাসের ভাষ্য তৈরি করতে প্রথমেই প্রয়োজন রাজা, মন্ত্রী, সেনাপতি এদের সরিয়ে সেইসব সাধারণ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনায় মনোনিবেশ করা, যেগুলো সাধারণ মানুষকে তাড়িত করেছিল।”
গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু অভ্যুত্থানের অর্জনকে টেকসই করতে প্রয়োজন শিল্প-সাহিত্যে তাকে ধরে রাখা। এই ছবি সেই বড় দেয়ালে একটা ইটের গাঁথুনি মাত্র।
সরাসরি নির্মাণ
সরাসরি অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার হাতে তৈরি বাইরের চোখে দেখা গল্প নয়
স্বাধীন অর্থায়ন
একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের বাইরে গিয়ে, গণ-অর্থায়নে নির্মিত
নিজস্ব সক্ষমতা
নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও নিজস্ব টেকনিশিয়ান দিয়ে সম্পন্ন
রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশগুলো এই ছবি করার চেষ্টা করেছে আপামর জনতার জায়গা থেকে। উত্তর চাপিয়ে না দিয়ে, প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে।
জুলাই কি কোনো মেটিক্যুলাস প্ল্যানের অংশ?
এর পেছনে মার্কিন অর্থায়ন ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করেনি আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি?
এটি কি ৭১-এর ধারাবাহিকতা, নাকি জুলাই ও ৭১ একে অপরের পরিপন্থি?
জুলাই নিয়ে আশাবাদী হবার সুযোগ কই?
অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনতার অধিকাংশ কি ডানপন্থী ছিল? তাহলে এর অর্থ কী দাঁড়ায়?
শেখ হাসিনাকে হটিয়ে আমরা আদৌ নতুন কিছু কি পেলাম?
তবে একটা ছবি একাই গোটা অভ্যুত্থানকে ডিফেন্ড করবে, এমনটাও নয়। ভাঙচুর আর কোলাহলের রাজনীতি দিয়ে অভ্যুত্থানের অর্জন টেকানো যাবে বলে আমরা মনে করি না।
২৪ এর অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বিস্ময়কর দিক বোধহয় এই যে, ‘উই হেইট পলিটিকস’ ট্রেন্ড থেকে শুরু হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কীভাবে তীব্রভাবে রাজনীতি সচেতন করে তুলেছিল এই আন্দোলন...
গণঅভ্যুত্থানের ৭ মাস পর কিছুই আর আগের মত নাই। গণবিমুখী রাজনীতি চলছে। এই সবকিছু বিবেচনায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ও সামষ্টিক ঐক্যের তদন্ত করা এখন আমাদের ঐতিহাসিক দ্বায়বদ্ধতা...
জুলাইয়ের ওপর ডকুফিল্ম বানানোর কথা যে মুহূর্তে ঠিক হলো, তখন আর যাই করি এই কাজে আমার নামবার কথা নয়। সবে একটা তান্ডবময় বছর শেষ হয়েছে... তবুও বন্ধুরা যখন ভাবলো, একমুহূর্ত ভেবেই রাজি হয়ে গেলাম।
এই ছবি আমরা নিয়ে যেতে চাই মাঠে-ঘাটে-মফস্বলে, অভ্যুত্থানকারী সেই সকল সাধারণ নাগরিকের কাছে।
‘জুলাই ডায়েরিজ’ নির্মিত হয়েছে একক অর্থায়নের বাইরে গিয়ে; প্রদর্শনীতেও সেই ধারা অক্ষুণ্ণ থাকবে। জুলাইয়ের গ্রাফিতি ও স্লোগানে ওঠা দাবিগুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই যত বেশি সম্ভব উন্মুক্ত প্রদর্শনী।
হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি যোগাযোগ করুন, নাম, স্থান ও সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে বার্তা পাঠান, আমরা দ্রুত সাড়া দেব।
হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুনছবির অর্থায়নের জন্য আমরা বের করেছি একটি ম্যাগাজিন, বোধ সংযোগ। বিক্রি করে পয়সা তোলার যতটা না ইচ্ছা ছিল, তার চেয়ে বেশি উদ্দেশ্য ছিল: কেউ আর্থিক সহায়তা করলে তাকে এক কপি উপহার দেওয়া।
এই ম্যাগাজিন গণ-অর্থায়নের সেই মডেলেরই অংশ, যার ওপর দাঁড়িয়ে ‘জুলাই ডায়েরিজ’ নির্মিত, কারো কাছে বয়ান বন্ধক না রেখে।
এক কপি সংগ্রহ করুন