গণঅভ্যুত্থানের ৭ মাস পর কিছুই আর আগের মত নাই। গণবিমুখী রাজনীতি চলছে। পুরনো বন্দোবস্তের সাথে নতুন বন্দোবস্তের সফল দরকষাকষি বিদ্যমান। এই সবকিছু বিবেচনায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও তার স্পিরিটের জায়গাটা কোথায় গিয়ে ঠেকল এখন, বা জুলাইয়ে দেখা সেই সামষ্টিক ঐক্যের জায়গাটা কোথায়, তদন্ত করা প্রয়োজন।
একেক দল ও মত নিজ নিজ মাস্টারমাইন্ড নিয়োগ করে আন্দোলনের স্বতস্ফুর্ত স্পৃহা দমন ও তাকে মুষ্টিবদ্ধ করে আনার যে প্রবণতা, তার বিরুদ্ধে গণমানুষের অবস্থানের ক্ষেত্রটা পরিষ্কার হয়েছে কী এখনো?
রাজনৈতিক কূটকৌশল, পররাষ্ট্রনীতি ও গ্লোবাল পলিটিক্স, ডিপস্টেট ও রাষ্ট্রের পাওয়ার সেন্টারগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব সাধারণ মানুষ বোঝে না। কিন্তু নিপীড়ন দেখলে তারা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে তা শনাক্ত করতে পারে। সহসা তারা মাঠে নেমে না পড়লেও নিপীড়নের পক্ষে তাদের সম্মতির মিথ্যা ছবি রচনা করে শাসকগোষ্ঠীকে অগ্রসর হতে হয়, কারণ শাসকগোষ্ঠী সাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি আদায় করতে পারে না।
আমাদের, আপনার ও সাধারণ জনগণের সামষ্টিক পারসেপশন কখনো ভুল করে না।
জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছে। ইতিহাসে সেনাবাহিনী, আমলা ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের সুষ্ঠু জয়-পরাজয়ের মীমাংসা করতে লোকবলের অভাব হবে না, কিন্তু আপামর সাধারণ গোষ্ঠির ভাষ্য ধারণ করবে কারা? কারা তাকে পুনর্নির্মাণ করে জনগণের প্রতিবিম্বকে তার সামনে হাজির করবে? তাকে তার ক্ষমতার প্রয়োগ ও আপন ভাগ্য নির্ধারণের এখতিয়ার মনে করিয়ে দিবে?
উত্তরটি খুব সহজ: জনগণ নিজে। অর্থাৎ, আমি আপনি, আমরা সকলে। কোনো সরকারি বা বেসরকারি এজেন্সীর এজেন্ডা ও স্বার্থ বাস্তবায়ন নয়, বরং জনতার আসল স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তোলার এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে সাধারণ মানুষ নিজে। এই উদ্দেশ্যেই আমাদের ডকুমেন্টারি ফিল্ম রচনার উদ্যোগ। সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক গণঅর্থায়নে (ক্রাউডফান্ডিং) নির্মিত হচ্ছে এই ছবি।
"ইতিহাসের ভাষ্য তৈরি করতে প্রথমেই প্রয়োজন রাজা, মন্ত্রী, সেনাপতি এদের সরিয়ে সেইসব সাধারণ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনায় মনোনিবেশ করা, যেগুলো সাধারণ মানুষকে তাড়িত করেছিল।"
আমাদের লক্ষ্যও ঠিক তা-ই। সত্যের জনগণের আসল বয়ানটুকুকে ইতিহাসের পাতায় ধরে আনা ও তাকে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ ছাড়া সর্বসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা।
একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুফিল্ম নির্মাণ করতেও আমরা অত্যন্ত ন্যূনতম বাজেট ধরে কাজ করছি। আমাদের পুরো প্রজেক্টের বাজেট মাত্র ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা।
আপাতত শ্যুটিংয়ের কাজ পুরোদমে শুরু করতে আমাদের প্রয়োজন মাত্র ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা।
আগামী ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার পলায়নের ১ বছর পূর্তিতে ছবিটি মুক্তি দিতে চাইলে এই ঈদুল আজহার পরপরই আমাদের শ্যুটে নামতে হবে। আমরা আশাবাদী, আগামী হপ্তা দুয়েকের ভেতর আমাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তহবিলটি সংগৃহীত হয়ে যাবে।
এগিয়ে আসুন। এই ঈদে সামান্য অর্থ আপনার নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ ও অধিকারের নিশ্চায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করুন।